আরিফা রহমানের কবিতা ‘অভিমানী ভালোবাসা’

অভিমানী ভালোবাসা

 

আরিফা রহমান

 

ভেবেছিলাম-

আবার একদিন কবি হব ।

যখন আমার বয়স, ৭৪ পেরিয়ে ৭৫ ছুঁই ছুঁই।

কুঁচকানো চামড়ার থরথরে হাতে শেষ কবিতাটা

তোমাকে নিয়েই লিখবো।

আজ সেই লালিত ধ্যানটা বদলে গেছে।

তাই ৪২ এসে থমকে গেলাম। যদি আর সময় না হয়!

জানিনা। এ প্রেম তোমার দুয়ার পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা।

তবুও যদি পৌঁছায়!

সেই ষোড়শীর যে অন্ধিসন্ধি বসবাস ছিল -সেটা আবেগ ছিল না,

দুচোখে যে রক্ত জল ঝরতো- তা অভিনয় ছিল না ।

আমার লেখনীর যে ছন্দ ছিল-ওটা কবিত্ব ছিল না।

তোমার দর্শনে যে আমার নীরবতা ছিল-ওটা অহংকার ছিল না ।

তুমিই বুঝনি ।

ছিল আমার ভালোবাসা।

কি অদ্ভুত ভালোবাসা। চার সন্তানের জননী।। তবুও আজ আমি কুমারী।

হয়তো তোমারি জন্য।

জানি হাসছো। বিষয়টা হাসার মতো। তবুও বলবো।

তোমার অনুভূতিতে একটু ছুঁয়ে নিও, ভালবাসার আত্মবিশ্বাস

কতটুকু নিখুঁত হলে বলা যায়-

আমি আজও কুমারী।

এই যে আজ পৃথিবী অসুস্থ।

কিংবা প্রকৃতি তার হাজার বছরের প্রতিশোধ নিচ্ছে,

নাকি। বিধাতা তার ধরনী রিস্টার্ট দিচ্ছেন, জানিনা।

তবে মানব সভ্যতা পালিয়ে বেড়াচ্ছে করোনার থাবায়।

আমিও তার বিকল্প নই।

তাই ,

যে অভিমান ৭৫-এ ভাঙ্গার কথা ছিল ।

তা ৪২-এ ভেঙে জানাতে চাই ,”শান্ত”

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

 

 

[কবি, লেখক ও সাংবাদিক, ঢাকা।]

You Might Also Like