হোম » আরাফাত ময়দানে হজ্জের খুতবায় শায়খ সাআদ বিন নসর

আরাফাত ময়দানে হজ্জের খুতবায় শায়খ সাআদ বিন নসর

এখন সময় ডেস্ক- Friday, September 1st, 2017

বৃহস্পতিবার ৩১ আগস্ট ফজরের নামাজ আদায়ের পর আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন ২৮ লক্ষাধিক হাজী। বুধবার ৩০ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা প্রদান করেন শায়খ ড. সাআদ বিন আন নসর আশ শাসরি। খুতবার জন্য তাঁকে খতিব নির্বাচন করা হয়, ড. সাআদ বিন আন নসর আশ শাসরি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদের সদস্য, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের রাজকীয় উপদেষ্টা।

খুতবায় খতিব শায়খ ড. সাআদ বিন আন নসর আশ শাসরি বলেন :

‘হে মুমিনগণ! তোমরা তাকওয়া অর্জন কর। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ তোমরা তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহ যা নির্দেশ করেছে তা মানতে চেষ্টা কর। আল্লাহর সাথে কাউকে ডেকো না। তাওহিদ হচ্ছে মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদের দ্বীন। তাওহীদ হচ্ছে আল্লাহকে এক ইলাহ বলে মানা। তার সাথে কাউকে ডাকা যাবে না।’

হে মানুষ সকল, নিশ্চই নাজাত ও মুক্তির পথ হচ্ছে ঈমান। রাসূল সা. আরকানুল ঈমানে এর কথা বলতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান আনা। রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা। কিতাবের প্রতি ঈমান আনা।

হে মুমিনগণ! সালাত হচ্ছে দ্বীনের খুঁটি। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নামাজের হেফাজত কর। যাকাত আদায় কর। এতে রয়েছে হৃদয়ের পবিত্রতা। চতুর্থ রোকন হচ্ছে, সিয়াম পালন করা। পঞ্চম রোকন হচ্ছে, হজ আদায় করা। হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান হচ্ছে একমাত্র জান্নাত। রাসুল সা. হজ আদায় করেছেন।

তিনি তার সে হজে সবার উদ্দেশ্যে বলেছেন, হে মুমিনগণ! দ্বীনের সৌন্দর্যের অন্যতম হচ্ছে একে অপরকে সাহায্য করা। ইহসান ও একে অপরের প্রতি দয়া করা। শরিয়ত বাবা মায়ের সাথে সুন্দর আচরণের নির্দেশ করেছে। সন্তানদের সাথে ভালো আচরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। সাতে সাথে খারাপ কাজ ও অশ্লীলতা থেকে নিষেধ করেছে।

নিশ্চয় প্রত্যেক মুসলিম নিরাপত্তার সহযোগী। একজন মুমিন রক্ত ঝরাতে পারে না। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের রক্ত ঝরাবে না। মুমিনের কাজ হচ্ছে ওয়াদা ঠিক রাখা। অঙ্গীকার ভঙ্গ না করা। মুমিনের কাজ হচ্ছে ওয়ালিউল আমরের কথা ঠিকভাবে মান্য করা। ফিকরের নিরাপত্তা বা আমন ফিকরির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

শরিয়ত সারা পৃথিবীতে নিরাপত্তা ও আমন ব্যাপকভাবে ছড়াতে নির্দেশ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তারাকি দেখে না যে আল্লাহ তাআলা হারামকে নিরাপদ বানিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিন ও বায়তুল মুকাদ্দিসকে নিরাপদ রাখুন। রাসুল সা. তার ভাষণে বলেন, জাহিলিয়াতের সব বিষয় আমার পায়ের নিচে রাখা হলো। অতএব কোনো ধরনের জাহেলি কাজ ইসলাম সমর্থন করে না। হজ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর জন্য।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরা কর। অতএব এখানে কোনো ধরনের দলীয় ব্যানার ও মিছিল বা প্রচারেরর কোনো সুযোগ নেই। হে শাসকবর্গ! তোমাদের সামনে কোরআন রয়েছে। শাসনের জন্য, দেশ পরিচালনার এই কোরআনই যথেষ্ট।

হে ওলামায়ে কেরাম! আপনাদের সামনে রয়েছে কোরআন ও সুন্নাহ, অতএব সব ক্ষেত্রে কোরআন সুন্নাহর অনুসরণ করতে চেষ্টা করুন। মিডিয়া কর্মীরা, আপনারাও দ্বীনের জন্য কাজ করতে চেষ্টা করুন। মুরব্বি ও পিতা মাতাগণ, সন্তানের ব্যপারে সতর্ক হোন।

হে হাজিগণ! আপনরা সকলেই মর্যাপূর্ণ স্থানে রয়েছেন। মর্যাদপূর্ণ সময়ে রযেছেন। আজ ইয়াওমু আরাফা। দোয়া কবুল হওয়ার সময়। নিজেদের জন্য চাইতে থাকুন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করুন। হে আল্লাহ, তুমি খাদেমূল হারামাইনের হায়াতে বরকত দান কর। হে আল্লাহ! তুমি হাজিদের হজকে কবুল কর। তাদেরকে নিরাপদে রাখ।