‘আমার স্ত্রীকে বাঁচালি কেন?’

চোখের সামনে কাউকে হাবুডুবু খেতে দেখে কি চুপ থাকা যায়? চাই সে নারী হোক আর পুরুষ। তবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক নারীকে উদ্ধার করে রীতিমতো বিপদেই পড়তে হয়েছে উদ্ধারকর্মীদের।

দমকল কর্মীদের কলার টেনে ধরে ওই নারীর স্বামী রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘আমার স্ত্রীকে বাঁচালি কেন? কার অনুমতিতে সুইসাইডটা ভেস্তে দিলি?’হাজার চেষ্টা করেও সেই ‘গুণধর’ স্বামীকে বোঝানো তো গেলই না, উপরন্তু সাহায্যকারীর ছবি তুলে বদলা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার আমদাবাদের বল্লভ সদনে এমন ঘটনায় উদ্ধারকারীরা তো বটেই, পথচারীরাও থ।

বৃহস্পতিবার দমকল অফিসে ফোনে খবর আসে, ৩৭ বছরের এক নারী সবরমতী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ দুই দমকলকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের মধ্যে একজন নদীতে ঝাঁপিয়ে উদ্ধার করেন ওই নারীকে। আর অপরজন তার স্বামীকে খবর দেন।

এই পর্যন্ত সব কিছু আর পাঁচটা ঘটনার মতোই ছিল। কিন্তু গল্পের মোড় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দেন ওই নারীর স্বামী। খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তিনি। তবে বৌয়ের খোঁজখবর না নিয়েই সোজা ধমকাতে শুরু করেন ওই দমকলকর্মীকে। কলার টেনে ধরে তাকে এই মারেন তো সেই মারেন অবস্থা। ‘কে বলেছিল আমার বৌ-কে বাঁচাতে? কার অনুমতিতে নদীতে ঝাঁপিয়েছিস? সুইসাইডটাই ভেস্তে দিতে কে বলেছে?’ রাগে গজগজ করতে করতে এই কথাগুলোই উগরে দিচ্ছিলেন তিনি। ভ্যাবাচ্যাকা দুই দমকলকর্মীর হাজার বোঝানোতেও তাঁর রাগ কমানো যায়নি। উল্টো মোবাইল ফোনে ছবি তুলে তাকে শাসাতেও শুরু করেন।

এর পর স্ত্রী এবং স্বামীকে নিয়ে আমদাবাদের রিভারফ্রন্ট থানায় হাজির হন দমকলকর্মীরা। অভিযোগ দায়ের করা হয় স্বামীর বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের পর দুজন জানান, তাদের ১০ বছরের বিবাহিত জীবন। দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। স্বামীর সন্দেহ স্ত্রীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সেই নিয়ে দু’জনের মধ্যে গোলমাল লেগেই থাকত। পরে স্ত্রী জানতে পারেন যে স্বামীরই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। দু’জনের মধ্যে সমস্যা এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে স্ত্রী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। পরে অবশ্য পুলিশের মধ্যস্থতায় নিজেদের সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ওই দম্পতি।

You Might Also Like