আব্দুস সামাদ আজাদ’র ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার

বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ’র ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী ২৭ এপ্রিল সোমবার। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে সকালে প্রয়াত নেতার কবর জেয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের কলাবাগানস্থ বাসভবনে কোরানখানি, লেকসার্কাস লেকভিউ জামে মসজিদে বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও ছাতকে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আব্দুস সামাদ আজাদ তৎকালীন সিলেট জেলার জগন্নাথপুর থানার ভূরাখালি গ্রামে ১৯২২ সালে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৪০ সালে সুনামগঞ্জ জেলা মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৪৬ সালে একই সংগঠনের অবিভক্ত আসামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে তাঁর সিদ্বান্ত অনুযায়ী প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয় । ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট থেকে এম,এল,এ নির্বাচিত হন এবং আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক জোট এন,ডি,এফ এর দপ্তর সাম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ থেকে এম,এন,এ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্বের প্রধান সংগঠকের একজন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের পুনর্গঠনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন এবং জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আওয়ামীলীগের অন্যতম প্র্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ এর গণঅভ্থূানের এবং ১৯৯৬ এর জনতার মঞ্চের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ মন্ত্রিসভায় সফল পররাষ্টমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বৃটিশ, পাকিস্তান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বৈরাচারের রোষানলে পড়ে জীবনের বহু বছর তিনি কারাবন্দি ছিলেন। ২০০১ সালের শেষ নির্বাচনে দল হারলেও আব্দুস সামাদ আজাদ সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য থাকা অবস্থায় ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।

-`সুরমা টাইমস’

You Might Also Like