হোম » আপন জুয়েলার্স: অবৈধ স্বর্ণ বিক্রির অভিযোগে সিলগালা হলো ঢাকার দু’টি শাখা

আপন জুয়েলার্স: অবৈধ স্বর্ণ বিক্রির অভিযোগে সিলগালা হলো ঢাকার দু’টি শাখা

ঢাকা অফিস- রবিবার, মে ১৪, ২০১৭

অবৈধ স্বর্ণ বিক্রির অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের রাজধানীর দু’টি শাখা সিলগালা করে দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। আজ (রোববার) শুল্ক বিভাগের পৃথক দুইটি দল রাজধানীর আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে দুপুর পর্যন্ত গুলশান-২ ও মৌচাক শাখা সিলগালা করে দেয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা। ভ্যাট ফাঁকির মাধ্যমে এসব দোকানে স্বর্ণ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের সব ব্যাংক হিসাব চেয়ে পাঠিয়েছে। শুধু ব্যাংক হিসাবই নয়, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা বা তারা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কীনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের জড়িত থাকার ঘটনার সূত্র ধরে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ এ অভিযান চালায়। ওদিকে, বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সকে বর্জন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে প্রচার। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অভিনয় শিল্পীরাও যোগ দিয়েছেন এই প্রচারে।
শুল্ক গোয়েন্দার যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমান জানিয়েছেন, রেইন ট্রি হোটেল কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হবে আকস্মিক অভিযান শেষে রোববার দুপুরে হোটেলটির অভ্যর্থনাকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের জানান মানি লন্ডারিং, কালোবাজারি এবং শুল্ক ফাঁকি দেবার অভিযোগে মামলা হবে।
শুল্ক গোয়েন্দার এ কর্মকর্তা জানান, হোটেলটির কোনো বার নেই। বারের ডিক্লেয়ার নেই। কিন্তু বিদেশি মদ, ড্রিংস, লিকার ও বিয়ার এই হোটেলে থেকে জব্দ করা হয়েছে। পণ্যগুলো আমদানিযোগ্য। কিন্তু তারা সঠিকভাবে ভ্যাট দিয়ে তারা সরাসরি আমদানি করেনি। আপাতত এসব স্মাগলিংয়ের পণ্য বলে প্রতীয়মান। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার এক তরুণী। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ সিলেট থেকে গ্রেফতার হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত দু’জনের মধ্যে একজনের ৬ দিন এবং অপরজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এই মামলার অন্য তিন আসামির মধ্যে রয়েছে- সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম হাসান মো. হালিম), সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালক। এরা তিনজনই পলাতক রয়েছে।