আপনি আজকেই অবসরে চলে যান: অর্থমন্ত্রীকে জাপা এমপি বাবলু

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চলতি বছরের ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বলেন, “অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ডিসেম্বরে অবসরে যাবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন আপনি রক্তক্ষরণ কনটিনিউ করবেন? আমাদের বাঁচান, দেশকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান।

এর আগে শুক্রবার এক আলোচনাসভায় বিকল্পধারার সভাপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছিলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ও নুরুল ইসলাম নাহিদকে ‘ঠাণ্ডা ধরনের’ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দরকার।

তার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া শনিবার ঢাকায় অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসা সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, “তাঁর বক্তব্যের সংবাদটি আমি পত্রিকায় পড়েছি। হ্যাঁ, আমি জানাচ্ছি এ বছরের ডিসেম্বরেই আমি অবসরে যাব। সে হিসেবে আর মাত্র ১১ মাসের মতো আছি।”

অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু বলেন, “ডিসেম্বর পর্যন্ত ওয়েট করার দরকার কী? আপনি আজকেই অবসরে চলে যান, গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচান, আমাদের বাঁচান। দায়িত্ব নিয়ে আজকেই অবসরে যান, দেশ জাতিকে পরিত্রাণ দেন।”
অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির এই এমপি বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। প্রথম পানামা পেপারসে নাম আসল, সরকার বা অর্থমন্ত্রী কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। তারপর প্যারাডাইস পেপারসে নাম আসল অনেক ব্যবসায়ীর কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিলেন না। যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভয় কিসের?”

বাবলু বলেন, পানামা পেপারস কেলেংকারির জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। আমাদের ২৭ জনের নাম এসেছে। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কতো টাকা পাচার হয়েছে, তারও কোনো হিসাব অর্থমন্ত্রী সংসদে দেননি। মনে হয় তিনি বাধ্যও নন। মাঝে মাঝে বলেন, চার হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা হলো? এর দায়িত্ব আপনাকে (অর্থমন্ত্রীকে) নিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে আজই অবসরে যান। দেশ ও জাতিকে পরিত্রাণ দিন।

জাতীয় পার্টির এই এমপি আরও বলেন, “ছোটবেলায় শুনতাম, যার হয় যক্ষা তার নাই রক্ষা। অর্থনীতির যক্ষা হয়েছে, অর্থনীতির কোনো রক্ষা নাই। বাঁচাতে হবে। অর্থনীতির রক্তক্ষরণের কারণে দেশের রক্তক্ষরণ হচ্ছে, জাতির রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কর্মসংস্থান না হলে অর্থনীতি বেগবান হবে কীভাবে?”
ঋণ কেলেঙ্কারিতে সঙ্কটে পড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংককে ঘাটতি পূরণে তহবিল জোগানোর সমালোচনা করে বাবলু বলেন, “সোনালী, জনতা, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের রিফাইনেন্সিং দরকার। দুই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। গত কয়েক বছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। কার টাকা এটা? এটা গৌরি সেনের টাকা নয়, ১৬ কোটি মানুষের টাকা। কীভাবে দিলেন, তার কোনো উত্তর নেই।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যারা টাকা পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্যারাডাইস পেপার্স ও পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে জাতি আপনাকে সাধুবাদ জানাবে।”

এর আগে জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “ঢাকা স্টক মার্কেটে স্মরণকালের বড় বিপর্যয় ঘটে গেছে। প্রত্যেক শেয়ার নিম্নমুখী। এই মুহূর্তে ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করার একটি ষড়যন্ত্র চলতেছে। শেয়ারবাজার থেকে যদি এই ২৫ শতাংশ শেয়ার তুলে নিয়ে যায় যেকোনো কোম্পানি, তাহলে কিন্তু মার্কেটে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে, সারা দেশে পড়বে। ব্যাংক খেয়ে, লুটপাট করে এখন গোটা স্টক এক্সচেঞ্জই লুটপাট হয়ে যাচ্ছে।”

You Might Also Like