আন্দোলনে রায় পরিবর্তন করা যায় না: ট্রাইব্যুনাল

রায়ের পর কোনো পক্ষকে সহিংস আন্দোলনের কর্মসূচিতে না যাওয়ার আহবান জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেছেন, সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন করা যায় না। এর জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার রায় পড়া শুরুর আগে ভূমিকা বক্তব্যে প্রসিকিউশন, আসামিপক্ষ, সাংবাদিক এবং রায় পর্যবেক্ষকদের উদেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, ফৌজদারি মামলায় সব পক্ষকে খুশি করে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। এ কথা আগেও বলেছি, এখন আবারও উচ্চারণ করছি।

তিনি আরো বলেন, বিচারকরা আইন এবং সংবিধানসম্মতভাবে বিচার করে থাকেন। আইনের সেই বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল থাকলে সেটা আইনসম্মতভাবেই প্রতিকারের সুযোগ আছে। যে পক্ষই অসন্তুষ্ট বা সংক্ষুব্ধ হন না কেন, তা উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, রায়ের পর আইনে বিশ্বাসী কোনো মানুষ কোনো সহিংস কর্মসূচি দিতে পারেন না। এবং কোনো সহিংস কর্মসূচি কাম্যও নয়। বিচারকদের মানসিক চাপের কারণ হতে পারে এমন কর্মসূচি থেকেও বিরত থাকা উচিত।

দেশি এবং বিদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে ইনায়েতুর রহিম বলেন, ইদানিং লক্ষ্য করছি, দেশের দু’একটি এবং বিদেশের কয়েকটি মিডিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এমনভাবে সংবাদ উপস্থাপন করছে যেন, ধর্মীয় নেতাদের বিচার করা হচ্ছে। এভাবে যে প্রচার করা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। আমরা বিচার করছি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের। সে অপরাধী কোন দলের, কোন পর্যায়ের নেতা সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। তিনি ইসলামী কোন পর্যায়ের নেতা সেটাও আমাদের বিবেচ্য নয়।

রায়ের পর কোনো পক্ষকে সহিংস আন্দোলনের কর্মসূচিতে না যাওয়ার আহবান জানিয়ে ইনায়েতুর রহিম বলেন, সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে রায় পরিবর্তন করা যায় না। এর জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বেলা এগারটা ১৮ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আজহারের মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। প্রথমে রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করছেন বিচারক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি আনোয়ারুল হক। রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়বেন বিচারক প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সবশেষে শেষ অংশ অর্থাৎ মূল রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

মোট ১৫৮ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পাঠ করা হচ্ছে।

এর আগে বেলা এগারটার দিকে ট্রাইব্যুনালে এসে বেলা এগারটা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসন নেন বিচারপতিরা। শুরুতে ভূমিকা বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।

এর আগে বেলা দশটা ৫৩ মিনিটে আজহারকে তোলা হয়েছে আসামির কাঠগড়ায়। সকাল নয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে এনে হাজতখানায় রাখা হয় এটিএম আজহারকে। তার পরনে রয়েছে সাদা রঙের পাঞ্জাবি-পাজামা ও ঘিয়া রঙের সোয়েটার। সকাল পৌনে নয়টার দিকে আজহারকে কারাগার থেকে বের করে তাকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশ্যে রওনা হয় প্রিজন ভ্যানটি। পুরোটা সময় তাকে চিন্তাযুক্ত দেখাচ্ছিল।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ৪ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শত শত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ৩(২)/এ, ৩(২)/সি, ৩(২)/ডি, ৩(২)/জি ও ৩(২)/এইচ এবং ৪/১ ও ৪/২ ধারা অনুসারে গঠন করা এসব অভিযোগের মধ্যে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটিতেও(উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।

এছাড়া আজহারের নির্যাতনের শিকার একজন বীরাঙ্গনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাইব্যুনালের কাছে দাবি জানিয়েছেন প্রসিকিউশন। আজহারের বিরুদ্ধে ওই বীরাঙ্গনা রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর টাউন হলে স্থাপিত পাকিস্তানি ও রাজাকার ক্যাম্পে আজহারের নেতৃত্বে ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

You Might Also Like