আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ এমপির জরুরি বার্তা

ব্রিটেনের লিবডেম পার্টির সংসদ সদস্য স্যার লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে বার্তা প্রেরণ করেছেন।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন ও নির্বাচনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
লর্ড কার্লাইল তার বার্তায় লিখেছেন, বর্তমান সরকার বিএনপির চেয়ারপার্সনকে নিজ কার্যালয়ে অবরূদ্ধ করে রাখা, ইটিভিতে বিরোধীদলের বক্তব্য প্রচার করায় এর চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার, সহিংস রাজনৈতিক ঘটনাবলী সব কিছুই প্রমাণ করে বাংলাদেশ ক্রমেই রাজনৈতিক অনিশ্চিত এক গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে এবং সরকার ক্রমেই একদলীয় শাসনের পথ বেছে নিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরিত ও বিরোধী।
ইউ এন স্পেশাল র‌্যাপোর্টার ও ইউরোপিয়ান কমিশনের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্স টিমারম্যান্স, ইউ এন পিস কিপিং এর চীফ অব দ্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্কো বিয়ানচিনি, ইইউর হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ফরেন এফেয়ার্স এন্ড সিকিউরিটি পলিসির ফেডেরিকা মোগেরিনি ও কমনওয়েলথ এফেয়ার্সের সেক্রেটারি ফিলিপ হ্যামন্ড এমপির কাছে এই বার্তা পাঠান লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল।
তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গত ৮ জানুয়ারি ই-মেইলে এক জরুরি বার্তাসহ রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট এবং সহিংস অবস্থার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। লর্ড কার্লাইল নিজের স্বাক্ষরসহ ওই চিঠিগুলোতে লিখেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এবং আন্তর্জাতিক আইনে গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষে জরুরি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
লর্ড কার্লাইল আন্তর্জাতিক উচ্চ পর্যায়ের একশন গ্রুপের এই সব নেতাদের কাছে লিখেছেন, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ এক অস্থির রাজনৈতিক অবস্থায় চলে যায়। একই সময়ে সহিংস ঘটনাবলীতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যাতে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য।
তিনি তার বার্তায় আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রমেই একদলীয় শাসন, শাসক শ্রেণির অগণতান্ত্রিক আচরণ, বিরোধী মত ও পথ রুদ্ধ করে দেয়া- সুষ্ঠু রাজনৈতিক অবস্থার পথে অন্তরায়। এই অবস্থা ক্রমেই বাংলাদেশকে এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে নিয়ে যাবে। সেজন্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনি জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে দেশটির গণতান্ত্রিক এবং আইনের শাসন রিস্টোর করার জন্য।

You Might Also Like