হোম » আদালতের রায় বিপক্ষে গেলে আইন তৈরি করে রাম মন্দির নির্মাণ: সুব্রমনিয়াম

আদালতের রায় বিপক্ষে গেলে আইন তৈরি করে রাম মন্দির নির্মাণ: সুব্রমনিয়াম

ঢাকা অফিস- Tuesday, May 16th, 2017

ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সিনিয়র এমপি সুব্রমনিয়াম স্বামী বলেছেন, ‘যদি আদালতের রায় রাম মন্দিরের পক্ষে না যায় তাহলে সরকার সংসদে আইন পাস করে আদালতের রায় পরিবর্তন করতে পারে এবং তার পরে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে।’ সোমবার এক টিভি চ্যানেল আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বামী ওই মন্তব্য করেন।

রাম মন্দির নির্মাণের তারিখ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ভগবান রাম যেখানে জন্মেছিলেন, সেখানে মন্দির নির্মাণ করা আমাদের মৌলিক অধিকার। আমার বিশ্বাস, জুলাইয়ের মধ্যে আদালত কিছু না কিছু সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেবে।’

তিনি বলেন, ‘রাম মন্দির বিজেপি’র জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতায় এসেছি এবং আমাদের ইস্তেহারেও তা রয়েছে।’

স্বামীকে প্রশ্ন করা হয়- আপনি বলেছিলেন দুই বছরের মধ্যে রাম মন্দির নির্মাণ করা হবে কিন্তু এখনো তো তা হয়নি এ প্রসঙ্গে কী বলবেন? জবাবে সুব্রমনিয়াম স্বামী বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীও বলেছিলেন, এক বছরের মধ্যে ভারত স্বাধীন হয়ে যাবে কিন্তু স্বাধীন হতে ১৭ বছর সময় লেগেছিল। রাম মন্দির যাতে দ্রুত নির্মাণ করা যায় সেজন্য আমি চেষ্টা চালাচ্ছি।’
স্বামীকে প্রশ্ন করা হয় আপনারা কী আদালতের রায় মেনে নেবেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়ের জন্য আমরা বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারব না। আদালতের রায় যদি বিপক্ষে যায় তাহলে আমরা সংসদে আইন তৈরি করে ওই রায় পরিবর্তন করতেও পারি।’

স্বামী এ ব্যাপারে সাবেক কংগ্রেস সরকারের আমলের একটি ঘটনার কথা টেনে বলেন, ‘কংগ্রেস সরকারও শাহবানু মামলায় আইন তৈরি করে আদালতের রায় পরিবর্তন করেছিল। আমরাও এরকম করতে পারি।’

কাশ্মিরে ৩৭০ ধারাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ফল বলে মন্তব্য করে স্বামী বলেন, ‘বিজেপি সরকার ৫ মিনিটের মধ্যে ওই ধারাকে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু রাজনীতিতে সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এজন্য ভালো মুহূর্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।’

সুব্রমনিয়াম স্বামীর মতে, ১০ লাখ সাবেক সৈনিককে অস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে কাশ্মিরে বসতি স্থাপন করা উচিত। এরফলে কখনো এমন পরিস্থিতি হবে না যে কাশ্মিরি পণ্ডিতদের সেখান থেকে পলায়ন করতে হবে।
সম্প্রতি পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ ভারতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন, কাশ্মিরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চরিত্র পরিবর্তন করে মুসলিমদের সংখ্যালঘু করার চেষ্টা চলছে, যাতে সেখানে জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে গণভোট হলে ভারতের সমর্থনে ভোট পড়ে।

সারতাজ আজিজের অভিযোগ, বহিরাগতদের কাশ্মিরে স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রমাণপত্র দিচ্ছে ভারত। সেখানে অকাশ্মিরি ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের জমি দেয়া হচ্ছে, কাশ্মিরি পণ্ডিতদের জন্য আলাদা টাউনশিপ গড়া হচ্ছে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের জায়গা দেয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছে দিয়েছেন পাক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি।

এরপরেই বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য সুব্রমনিয়াম স্বামীর মুখে অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের কাশ্মিরে বসতি স্থাপন করার পক্ষে সাফাই দিতে দেখা গেল।