আত্মহত্যাকে উৎসাহিত করছেন জয়ললিতা

তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে কারাগারে নেয়ার খবর পেয়ে ১৯৩ জন আত্মহত্যা করেছিল। প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল এমআইএডিএমকে এই দাবি করেছে। যদিও ভারতে এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রিয় নেতা বা তারকাদের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভক্ত সমর্থকদের জীবন বিসর্জন দেয়ার দেদার ঘটনা ঘটেছে। তবে একসঙ্গে এত লোকের আত্মহত্যার ঘটনা অবশ্যই নতুন।

বিপুল সংখ্যক ভক্তের আত্মহননের ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় এই নেত্রী, যিনি তার দলের কাছে ‘আম্মা’ নামেই অধিক পরিচিত। তাই তিনি আত্মহত্যাকারীদের প্রতি পরিবারকে ৩ লাখ রুপি করে সাহায্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়া তিন ব্যক্তির প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ভারতে আত্মহত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন এদেরকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়ে জয়ললিতা প্রকারান্তরে অপরাধী তৎপরতাকে সমর্থন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস।

ভারতে প্রিয় নেতা বা জনপ্রিয় অভিনেতাদের মৃত্যুতে তাদের ভক্ত সমর্থকদের প্রায়ই আত্মহত্যা করতে দেখা যায়। ১৯৮৭ সালে তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রন মারা গেলে, জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তার ৩০ সমর্থক। ২০০৬ সালে মারা যান কানাড়া চলচ্চিত্রের অভিনেতা রাজকুমার। এ খবর শুনে তার বহু ভক্ত আত্মহত্যা করেছিলেন বলে গুজব রয়েছে। ২০০৯ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সিএম রেড্ডি । এই শোকে তখন শতাধিক লোক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। তবে সব আত্মহননকারীদের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা এই প্রথম।

অবৈধ সম্পদ আত্মসাৎয়ের মামলায় গত মাসে চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলে যান জয়ললিতা। পরে অবশ্য দু মাসের জন্য জামিন পেয়ে তিনি এখন মুক্ত রয়েছেন।

জয়ললিতা একজন জনপ্রিয় নেত্রী। তার জনপ্রিয়তা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। তাই বলে আত্মহত্যার মত একটি অপরাধী তৎপরতাকে উৎসাহিত করার বিষয়টি মেনে নেয়া যায়না। তার উচিত ভক্তদের অন্য কোনো সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত করা। এভাবেই নেত্রীর সমালোচনা করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

You Might Also Like