আত্মঘাতী জঙ্গি ছিল ইশরাত জাহান

২৬/১১ মুম্বাই হামলায় জড়িত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি এখন এই মামলায় রাজসাক্ষী। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার এই জঙ্গির এখন সাক্ষ্য চলছে ভারতীয় আদালতে। তৃতীয় দফার সাক্ষ্যদানের সময় বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন ডেভিড কোলম্যান হেডলি।

তার দাবি, ওই হামলায় লস্করের আত্মঘাতী জঙ্গি ছিল ১৯ বছরের ইশরাত জাহান। ২০০৪ সালে গুজরাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এই কলেজ ছাত্রীর। সে ছিল আসলে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য।

আদালতে হেডলি জানিয়েছেন, ইশরাতকে গুজরাটের অক্ষরধাম মন্দিরে হামলা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৪ সালের ১৫ জুন আহমেদাবাদে গুজরাট পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ইশরত জাহান সহ চার জনের। গুজরাট পুলিশের তরফে দাবি করা হয়, জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত এই চারজন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খুনেরও পরিকল্পনা করেছিল।
অবশ্য সিবিআই-এর অভিযোগ ছিল গুজরাট পুলিশের সাতজনের দল খুব ঠান্ডা মাথায় ইশরাত সহ আরও চার জনকে গুলি করেছিল এবং পারিপার্শ্বিক সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করে দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ ছিল গুজরাটের প্রবীণ পুলিশ অফিসারদের একটি দল, গুজরাটের গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে মিলে এই ভুয়া সংঘর্ষ অভিযানটি চালিয়েছিল।

এনকাউন্টারে নিহত ইশরত জাহান ও তার ৩ সঙ্গী

সেই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে তৎকালীন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধেও। সেইসময়েও গুজরাট পুলিশের বক্তব্য ছিল, ইশরত জাহান লস্কর জঙ্গি। যদিও সেইসময়ে ভুয়া সংঘর্ষ মামলায় গুজরাট হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়ে সিবিআই মামলার তদন্ত করে রাজ্য পুলিশের ২০ জন অফিসারকে দোষী দাবি করে খুনের মামলা রুজু করেছিল। তবে এতদিন পরে ফের ইশরাত জাহানকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়ে এলেন ডেভিড হেডলি।

হেডলি জানিয়েছেন, মুম্বাই হামলার আগে রেকিতে আসার জন্য তাকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছিল আইএসআই। তার আরও দাবি, ভারতে জাল নোট ছড়ানোর পিছনে আইএসআই-এর হাত রয়েছে। নির্দেশ ছিল, মুম্বাইতে অভিবাসন কেন্দ্র খোলার। যাতে আরও বেশি লোককে ভারতে আসার ব্যাপারে সাহায্য করা যায়। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অনুমতি না দেওয়ায় খোলা যায়নি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ফলে ভেস্তে যায় পরিকল্পনা।

You Might Also Like