আওয়ামী লীগকে আরো গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে : আ স ম আ রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আরো গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি রাউন্ড টেবিল মিলনায়তনে জেএসডি’র আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। আ স ম আবদুর রব আরো বলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ-জেএসডি নিয়ে যারা বিতর্ক তুলছেন তারা গভীর সত্যকে অনুধাবন না করে-আত্মসমালোচনা না করে অহেতুক অভিযোগ করছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে জাসদ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে সবার উর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। জাসদই মুজিব বাহিনী গঠন করেছে। আ স ম রব জানান, সিরাজুল আলম খান এর নেতৃত্বাধীন নিউক্লিয়াস এর পক্ষে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’উপাধী প্রদান করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুকে ‘মহাত্মা গান্ধী’র মত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে রাখতে চেয়েছিল জাসদ নেতৃত্ব। আ স ম রব আরো জানান, বঙ্গবন্ধুর সাথে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খার প্রশ্নে রাজনৈতিক দ্বিমত ছিল। আর এজন্য একশ’ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আদর্শ জাতির সামনে উত্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আস্থাবান হয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ-জেএসডি গঠন করা হয়েছিল। তৎকালীন পরিস্থিতিতে শোষণ-মুক্তির লড়াইয়ে লাখ লাখ ছাত্র-যুবককে জাসদের আর্দশে উজ্জীবিত করা হয়েছিল বলেও জানান আব্দুর রব। আর একাজ করতে তিনি ইতিহাস স্মরণ করিয়ে বলেন, দলীয় সরকার ও সামরিক সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরা কী নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছি তা জাতি জানে। আ স ম রব বলেন, রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে ১২ বছর আর আমি স্বাধীন দেশের কারাগারে ১০ বছর ছিলাম। আজ অনেকেই আজকের প্রেক্ষাপটে অতীতের মূল্যায়ন করছেন। অতীত সম্পর্কে অতীত (পারসপেক্টিভ) নিয়ে মূল্যায়ন করলে বিভ্রান্তি হতো না। আওয়ামী লীগ ও আজকের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর জন্য নিম্নের বিষয়গুলি অনুসন্ধান করে ইতিহাসের প্রকৃত সত্যকে জাতির সামনে হাজির করুন। আ স ম রব প্রশ্ন রাখেন, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর কারা ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন না করে বঙ্গবন্ধুকে দলীয় সরকার গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল? কারা বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল গঠনে বাধ্য করেছিল? কারা তাকে রক্ষী বাহিনী গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল।? রাজনৈতিক সঙ্কটকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের উদ্যোগ নিতে কারা বঙ্গবন্ধদুকে উৎসাহিত করেছিল? কারা তার সাথে তাজউদ্দিন আহমেদেও সর্ম্পক বৈরী এবং দুরত্ব তৈরি করেছিল? কারা বঙ্গবন্ধুকে আজীবন রাষ্ট্রপতি আর সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে তার হত্যা তরান্বিত করেছিল? এদিকে বিদ্যমান অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের উপায় নিয়ে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকার জনগণের সম্মতি ছাড়াই দেশ পরিচালনা করছে। জনগণ উপেক্ষিত। নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোটাধিকার, মৌলিক অধিকার আর এ সরকার ফেরত দিতে পারবে না। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে কী হয় তা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আর ৩টি প্রমাণিত। সরকার গণতন্ত্র চর্চা বন্ধ করে সরকার জঙ্ঘীবাদী রাষ্ট্র বানানোর রসদ যোগাচ্ছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার অবসান করে উন্নত রাজনীতির চর্চা করতে হবে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like