আইনের মধ্যে থেকেই পুলিশ যা করার করবে: প্রতিমন্ত্রী

অবরোধের মধ্যে নাশকতা দমনে পুলিশের আইনের কোনো লঙ্ঘন ঘটাবে না বলে উদ্বিগ্নদের আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
যে কোনো উপায়ে সন্ত্রাস দমনে পুলিশকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তা নিয়ে বিএনপির উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন তিনি।
আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, “পুলিশ যা করবে, তা আইনের মধ্যে থেকেই করবে।”
বিএনপি জোটের অবরোধের মধ্যে সারাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে গাড়ি পোড়ানো ও বোমাবাজি ঘটছে, যাতে এই পর্যন্ত পরিবহন শ্রমিকসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
নাশকতার জন্য বিএনপি জোটকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেন, “মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আপনাদের দিতেই হবে। আর সেটা দেওয়ার জন্য যত কঠিন কাজ হোক সেটা আপনারা নির্দ্বিধায় করে যাবেন; অন্তত এইটুকু লিবার্টি আমি আপনাদের দিচ্ছি।”
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা তো দেখেছেনই সারাদেশে আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে পেট্রোল বোমা মেরে হত্যা করা হচ্ছে। সম্পদ নষ্ট করা হচ্ছে।
“পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী জানমালের কথা, জনগণের কথা চিন্তা করেই পুলিশকে আরেকটু কষ্ট করার কথা বলেছেন।”
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় হরতাল-অবরোধ থাকলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আশা করি, এসএসসি পরীক্ষার সময় এ ধরনের হরতাল-অবরোধ থাকবে না। যদি থাকে তাহলে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ইতোমধ্যে জনগণ নাশকতাকারীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।”
নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক, বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ চৌধুরীর বক্তব্যের পর তাদেরও সমালোচনায় মুখর বিএনপি।
নাশকতা দমনে বর্তমানে পুলিশকে সহায়তাকারী বিজিবির মহাপরিচালক আজিজ সম্প্রতি বলেছিলেন, তার বাহিনীর সদস্যরা যদি পেট্রোল বোমা হাতে নিয়ে ছুড়তে কাউকে দেখেন, তবে গুলি চালাতে দ্বিধা করবেন না।
তার ওই বক্তব্য আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় মেজর জেনারেল আজিজ বৃহস্পতিবার যশোরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি র‌্যাব-পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
“রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বা এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আমাদের ওপর নেই, আমিও এমন কোনো নির্দেশনা দিইনি। সেটা আমাদের কাজও না।”
যশোরের ঝুমঝুমপুরে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন হেড কোয়ার্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবি প্রধান।
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা দুই ধরনের কাজ করছি। বর্তমানে কৃষকদের ঘরে নানান ধরনের ফসল উঠছে। এসব ফসল বিক্রি ও পরিবহন করতে না পারলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেজন্য পরিবহন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে আমরা র‌্যাব ও পুলিশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে হাইওয়েতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছি।
“এছাড়া কোথাও হরতাল আহ্বান করা হলে সেখানেও আমরা সামর্থ্যমতো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে থাকি। সেক্ষেত্রে বিজিবি সদস্যদের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন এবং তারা ডিসির অধীনে থাকে।”
তবে নাশকতার বিরুদ্ধে বিজিবির সক্রিয় থাকার কথা জানিয়ে মেজর জেনারেল আজিজ বলেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া যাবে না। এগুলো আমরা দমন করবই।”
বিজিবি প্রধান এদিন চুয়াডাঙ্গার ধোপাখালীতে বাহিনীর নবনির্মিত ক্যাম্পও উদ্বোধন করেন।
সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বিজিবি।”

You Might Also Like