আইএসআইএল সৃষ্টিতে হাত থাকার কথা স্বীকার করল মার্কিন ‘ডিআইএ’

আমেরিকার ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা ডিআইএ’র প্রধান মাইকেল ফ্লাইন স্বীকার করেছেন, ওয়াশিংটনের একক সিদ্ধান্তে সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র আবির্ভাব ঘটেছে। তিনি বলেন, ডিআইএ’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, আইএসআইএল সৃষ্টিতে শুধু আমেরিকা নয় পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশ, কয়েকটি আরব দেশ ও তুরস্কেরও বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগেও মার্কিন কর্মকর্তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল সৃষ্টিতে আমেরিকার হাত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। আইএসআইএল সৃষ্টিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে যাওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা এখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো যুদ্ধের কথা বলছেন। ইরাকে আইএসআইএল’র তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর আমেরিকা তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠন করে। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ড থেকে প্রমাণিত হয়েছে, আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় আমেরিকা মোটেও আন্তরিক নয়।

প্রকৃতপক্ষে, আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের উত্থান ও তাদের বিস্তারে যে সব দেশের হাত ছিল তারাই এখন এসব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। কারণ সন্ত্রাসীরা ওইসব দেশের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা একদিকে সিরিয়া সরকারকে উৎখাত করতে ও ইরাকের শিয়া মুসলমানদের ক্ষমতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং অন্যদিকে আইএসআইএল খোদ পাশ্চাত্য ও তাদের আরব মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠায় আমেরিকা তাদের মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক জোট গঠন করেছে। এ অবস্থায় আইএসআইএলকে দমনের কথা বলে আমেরিকার আসল লক্ষ্য উদ্দেশ্য কি সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এসব লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ফিরিয়ে আনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বহুবার বলেছেন, আইএসআইএলকে দমনে আমেরিকা বিমান হামলা চালালেও তাদের মোকাবেলায় স্থল সেনাও মোতায়েন করা হবে। এ থেকে বোঝা যায়, আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের দমনের কোনো ইচ্ছাই আমেরিকার নেই। আইএসআইএল বিরোধী সামরিক জোটের কমান্ডার জেনারেল জন অ্যালানও সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ওবামার নীতি-কৌশলের সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা এমন সময় আইএসআইএলকে মোকাবেলার দাবি করছে যখন আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য স্বয়ং সৌদি আরব, কাতার ও জর্দানের মতো দেশগুলোর আইএসআইএল সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকা বিমান হামলা চালানোর নামে আইএসআইএল’র নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অস্ত্রের চালান নিক্ষেপ করেছে। আমেরিকার অনেক পাইলট এটাও স্বীকার করেছে, সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর বোমা হামলা চালানোর অনুমতি সেনা কর্মকর্তারা তাদেরকে দেয়নি।

তাই বলা যায়, আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে আমেরিকার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র লোক দেখানো এবং তারা এমনভাবে এ সব সন্ত্রাসীকে নিয়ন্ত্রণ করছে যাতে ভবিষ্যতে এদেরকে এ অঞ্চলে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কিংবা নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার কাজে ব্যবহার করা যায়।

You Might Also Like