আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমতি চেয়েছে মার্কিন সরকার

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী যত দ্রুত সম্ভব উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দেয়ার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ্টোন কারটার এ আহবান জানান। তিনি আরো বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফলতার জন্য প্রয়োজন স্থল ও বিমান বাহিনীর সমর্থন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাহিনীর সহযোগিতারও প্রয়োজন রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য হোয়াইট হাউজের প্রতি কংগ্রেসের সমর্থনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ওবামার পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দেয়ার আহবান জানান।

 

বর্তমানে মার্কিন সেনারা ইরাকি সেনাবাহিনীর পরামর্শ ও সহযোগিতায় আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যে বিমান হামলা চালাচ্ছে তাতে কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। অথচ ইরাক ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস বিরোধী সামরিক অভিযান চালানোর জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশের শাসনামলে কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছিল। সেই ধারা অনুসরণ করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ হোয়াইট হাউজের ধারণা রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের কাছ থেকে আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি পেলে এ নিয়ে ভবিষ্যতে আর রাজনৈতিক বিতর্ক বা সমালোচনার মুখে পড়তে হবে না।

 

আইএসআইএল বিরোধী যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের কাছ থেকে অনুমোদন লাভের ব্যাপারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ্টোন কারটার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, আমেরিকা আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে এমন এক নতুন কৌশল বা নীতি অবলম্বনের চেষ্টা করছে যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ লক্ষ্যে ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তের বাইরেও সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছে কংগ্রেসের কাছে যাতে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে এমনকি আফ্রিকাতেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো যায়।

 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, আইএসআইএল’র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের মত হবে না। তিনি বলেন, এ যুদ্ধের মেয়াদ হবে তিন বছর যাতে যুদ্ধ শেষ না হওয়ার ব্যাপারে কারো মধ্যে কোনো শঙ্কা বা উদ্বেগ না থাকে। তিনি ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে আমেরিকার কিছু ভুল-ভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমাদের উচিত অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া।

 

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এবার বিমান হামলা এবং ইরাকি সেনাদের সহযোগিতা নেয়ার ওপর বিশেষভাবে জোর দেয়া হচ্ছে। কারণ ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে কয়েক হাজার মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার তিক্ত ঘটনা আজো কেউ ভুলতে পারেনি এবং সেই সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তো রয়েছেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত কিছুর পরও নতুন যুদ্ধে জড়ানো এবং সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে কৃতিত্ব নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তার উপদেষ্টারা উঠেপড়ে লেগেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, আইএসআইএল বিরোধী যুদ্ধ ইরাক ও আফগান যুদ্ধের মতো এত দীর্ঘ হবে না কিন্তু তিনি মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকা মহাদেশ পর্যন্ত যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃতির যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এ যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করতে হবে কর প্রদানকারী আমেরিকার জনগণকেই।

You Might Also Like