অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে ৩ জনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড

বাগেরহাটে গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে তিনজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আসামিরা সবাই পলাতক। কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোল্লা মাসুদ রানা (৩১), মোস্তফা উচস্থা (৩৪) ও হান্নান শেখ (৩৪)।

আজ রবিবার দুপুরে বাগেরহাট অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান ওই আদেশ দেন।

আদালত আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনের ১০ ধারার বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রায় ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে নিয়ে তা নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা ঘটনার শিকার গৃহবধূকে দিতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

আদালত মামলাটি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে তিরস্কার করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁদের গাফিলতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিরস্কৃত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন বাগেরহাটের তত্কালীন পুলিশ সুপার খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ফকিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার মিত্র ও উপপরিদর্শক এস এম আকরাম হোসেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের পাওয়া যায়নি।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের ওই গৃহবধূকে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন। ওই গৃহবধূর স্বামীর নাম জাকির হোসেন। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর রাতে আসামিরা গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি চিত্কার করলে আসামিরা তাঁর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন।

১১ নভেম্বর ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় একটি মামলা করেন।

ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১১ সালের ৮ মার্চ দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক অজিত কুমার মিত্র আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানেও আসামিরা সম্পৃক্ত নন বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১১ সালের ১০ এপ্রিল বাদীর নারাজি আবেদনের শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বাদীপক্ষের উপস্থাপিত বিভিন্ন দালিলিক, মৌখিক ও বিশেষজ্ঞ মতামত পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারকাজ শুরু করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

বাগেরহাট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শেখ মোহম্মদ আলী বলেন, পুলিশের গাফিলতির কারণে বাদীপক্ষ যখন সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল তখন আদালত সুনির্দিষ্ট প্রমাণগুলো বিশ্লেষণ করে মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেন। আদালতের রায় অত্যন্ত যুক্তিসংগত ও সঠিক বলে তিনি জানান।

বাগেরহাট আদালত চত্বরে বসে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আসামিরা পুলিশকে প্রভাবিত করে আমাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছিল। কিন্তু বিচারকের বিচক্ষণতায় আমি সুবিচার পেয়েছি।’ তিনি অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।

You Might Also Like