অর্থমন্ত্রীর বিরোধিতায় এনবিআরে রদবদল স্থগিত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকসহ আয়কর উইংয়ের শীর্ষ ২৭ পদে রদবদল ও পদায়ন স্থগিত করা হয়েছে।

 

গত ২৭ অক্টোবর সোমবার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ রদবদলের তথ্য জানিয়েছিল এনবিআর।
এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পরই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর তিনদিন পর গত বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে রদবদলের আদেশ স্থগিত করা হয়। এনবিআরের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সোমবার রদবদলের আদেশ জারির পর ক্ষুব্ধ হন অর্থমন্ত্রী। এরপরই সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমত আরা সাদেকের কাছে ডিও লেটার পাঠান তিনি।

 

চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিয় সহকর্মী, অদ্ভূত একটি কাণ্ড হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে। বিদায়ী চেয়ারম্যান, যার চুক্তিভিত্তিক চাকরি জানুয়ারির শুরুতে শেষ হবে, তিনি আয়কর বিভাগের কমিশনারদের সারা দেশব্যাপী পদ পরিবর্তনের নির্দেশ জারি করেছেন। তারপরে যিনি এই পদে বসবেন তিনি হয়ত এই রকম কাজ করতে কিছুটা সময় নেবেন। সচরাচর এমন সময়ে ব্যাপক পদ পরিবর্তন হয় না।

 

আমার প্রশ্ন হল— বিদায়ী কর্তাব্যক্তির এটা করা কী উচিত হয়েছে? এই নির্দেশ কী কার্যকর করতে দেওয়া উচিত? পদায়নের বিষয়ে সচিবই আসল ব্যক্তি। সেখানে মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমার মনে হয়, এই নির্দেশের কার্যকারিতা অন্তত নতুন চেয়ারম্যান না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখা শুধু উচিতই নয়, বাধ্যতামূলক। এত ব্যক্তির পদপরিবর্তন অবশ্যই আর্থিক হিসেবে ব্যয়সাপেক্ষ।’

 

একইসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বিদায়ী সচিবদের ক্ষমতা কমাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্রস্তাব দেন।

 

প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, `আপনারা একটি উপায় খুঁজে বের করুন, যাতে এই নির্দেশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে বন্ধ করা যায়।’

 

অর্থমন্ত্রীর ওই ডিও লেটার পাঠানোর পর পরই অর্থমন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক অফিস আদেশে রদবদলে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিন অতিরিক্ত কমিশনারকে কমিশনার পদে পদোন্নতি দিয়েছিল। আর কর আপিলাত ট্রাইব্যুনালের সদস্য কর কমিশনার বেলাল উদ্দিনকে সিআইসি সেলের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

You Might Also Like