অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি চায় আপিল বিভাগ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তবে এই মুহূর্তে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। উপরন্ত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি ওই মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারিত হওয়াটা খালেদা জিয়ার জন্য অসুবিধাজনক হিসেবেই দেখছেন আইনজ্ঞরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলেও অন্য কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোয় এ মুহূর্তে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। যেসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিংবা নিম্ন আদালতে হাজির করার জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে সেগুলোতে জামিনের জন্য আলাদাভাবে আইনি লড়াই করতে হবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। উপরন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার করা আপিল নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টকে ওই আপিল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল বহাল রাখার পাশাপাশি ওই নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এরই মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের ওপর শুনানির প্রস্তুতি নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আপিল বিভাগের রায়ের কপি পাওয়ার পরপরই দ্রুত ওই শুনানির জন্য উদ্যোগ নেবে তারা।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, আপিল বিভাগ সময় বেঁধে দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য অসুবিধার সৃষ্টি হলো। কারণ, ‘কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না যে মামলায় খালেদা জিয়া খালাস পাবেন, নাকি তাঁর আপিল খারিজ হবে। যদি তাঁর আপিল খারিজ হয়ে যায় তাহলে তো অসুবিধা হবেই। আর খালাস পেলে তো বেঁচেই গেলেন।’

বিএনপিপন্থী অনেক আইনজীবীও মনে করেন, আপিল বিভাগের ওই নির্দেশ খালেদা জিয়ার জন্য খারাপই হয়েছে। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় এই খারাপ দিকটা ভাবা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকা অবস্থায় ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিলের শুনানি শেষে যদি খালেদা জিয়ার সাজা বহাল থাকে তাহলে ওই নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকলে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন তিনি।সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিল নিষ্পত্তি হলে সেই রায় প্রভাব ফেলবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। খালেদা জিয়ার সাজা বহাল থাকলে তাঁর আইনজীবীদের দ্রুত আপিল বিভাগে আপিল করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ বা দুদক তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেবে, যেমনটি করছেন হাইকোর্ট বিভাগে। তাতে সাজা বহাল থাকলে খালেদার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রশ্নের মুখে পড়বে।

সংবিধান অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দুই বছর বা তার অধিক সাজা হলে এই সাজা ভোগ শেষে পরবর্তী পাঁচ বছর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না; যদি (ঘ) ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’

গত ১৬ মে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় দেওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীরা বলেন, ওই রায়ের কপি পাওয়ার পর দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। গত শনিবার ওই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের কপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইকোর্টে শুনানির উদ্যোগ নেবেন তাঁরা।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও মনে করেন, ‘আপিল বিভাগ জামিন আবেদনের বিষয়ে রায় দিতে গিয়ে আপিল নিষ্পত্তির জন্য সময় বেঁধে দেওয়া সমীচীন হয়নি বলেই মনে করি। আপিল বিভাগের এ রায়ে মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে যাদের আপিল বছরের পর বছর বিচারাধীন রয়েছে তাদের প্রতি অবিচার এবং আগামী নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপিকে বিপাকে ফেলার দুরভিসন্ধি হচ্ছে কি না!

You Might Also Like