‘অবরুদ্ধ’ খালেদার ১০০ ঘণ্টা

নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্যে ষষ্ঠ রাত আর পঞ্চম দিনের মতো ‘অবরুদ্ধ’ সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত প্রায় ১০০ ঘণ্টার ‘অবরুদ্ধ’ সময় অতিবাহিত করেন তিনি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপি প্রধান তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর থেকে এখনো তিনি সেখানেই আছেন।

বৃহস্পতিবারও কার্যালয়ের মূল ফটকে পুলিশের লাগানো তালা দেখা গেছে। ফটক ঘেঁষে সামনের সারিতে নারী এবং তার সামনে আড়াআড়িভাবে সশস্ত্র পাহারায় রয়েছে পুলিশ। জলকামান ও পুলিশের বড় লরি রাস্তায় আড়াআড়িভাবে রেখে সব ধরনের যান চলাচল যথারীতি বন্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে বিকল্প পথে চলাচল করতে পুলিশ সদস্যরা অনুরোধ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তার সঙ্গে রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কার্যালয়ের কর্মকর্তা এম এ কাইয়ুম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন “িার, শামসুল আল আমীন ডিউ। এ ছাড়া অফিস সহকারী ও চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা স্কোয়াডের সদস্যরা রয়েছেন।

কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় নিজের চেম্বারে অনেকটা শুয়ে-বসে সময় কাটছে বিএনপির চেয়ারপারসনের। মাঝেমধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও অন্যান্য নেত্রীদের সঙ্গে গল্প করে সময় পার করছেন তিনি।

এ দিকে গত সোমবার বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পিপার স্প্রে ব্যবহারের পর খালেদা জিয়ার যে অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল, তা এখনো রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বোন অ্যান্ড জয়েন্ট স্পেশালিস্ট ও সার্জন অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, খালেদা জিয়া পুরোপুরি বিশ্রামে আছেন। পিপার স্প্রের কারণে তার শাসকষ্ট হচ্ছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। পিপার স্প্রের কারণে খালেদা জিয়ার চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। সে জন্য পুরোপুরি বিশ্রামে আছেন তিনি।

দশম সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তির দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালনের ঠিক দুই দিন আগে শনিবার রাতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশ বেষ্টনীতে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি।

গত সোমবার বিকেলে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসে জনসভা ও কালো পতাকা মিছিলে অংশ নিতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে বের হতে পারেননি। পরে সেখান থেকেই পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

You Might Also Like