‘অপ্রত্যাশিত ঘটনা’র আশঙ্কায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বিলম্বিত

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা আগেই সাংবাদিকদের কাছেঅপ্রত্যাশিত ঘটনা আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। সব প্রস্তুতি থাকার পরও শেষ মুহূর্তে কারিগরি জটিলতার কারণে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো  সম্ভব হয়নি। স্পেসএক্স এর প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ জানিয়েশুভ কামনাপ্রত্যাশা করেছিলেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১০ মে) দিবাগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে স্পেসএক্সের ফ্যালকন রকেটে করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মহাকাশে পাড়ি জমানোর কথা ছিল। পরে সময় আরও ১৫ মিনিট বাড়িয়ে ৪টা মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা বলা হয়। তবে ৪টা মিনিটে উৎক্ষেপণের স্থগিতের কথা জানায় স্পেসএক্স।

তবে এই উৎক্ষেপণ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসেবে যদি একটুও এদিক সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগামীকাল একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরণের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর স্পেসএক্স এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এক মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ থমকে যেতে হয়েছে। রকেট এবং পেলোড ভালো অবস্থায় আছে। আগামীকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে একটি দল কাজ শুরু করেছে।

এলন মাস্ক

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মাস্ক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি ঘণ্টা আগেই টের পেয়েছিলেন উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে না। নিয়ে তখনই উদ্বেগও জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘যে কোনও কিছুই ঘটে যেতে পারে, যা অপ্রত্যাশিত।

মহাকাশে ওড়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু১। দেশেবিদেশে অধীর প্রতীক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি বাংলাদেশি। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে রাত জেগে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন দেশবাসী। তবে কারিগরি জটিলতার কথা জানিয়েছে একদিন পিছিয়ে দেয় উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।  তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টা ১৪ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিট) স্যাটেলাইটটি আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।

১১৯ দশমিক ডিগ্রির অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) উড়বে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু১। বঙ্গবন্ধু উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ডিগ্রি) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু এর মাধ্যমে টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভিস্যাট বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্টোরিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রাখা, পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে সেবা নিশ্চিত করবে। এখন দেশে প্রায় ৩০টি প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেল সম্প্রচারে আছে। এসব চ্যানেল সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু হলে এসব স্যাটেলাইটের ভাড়া কমবে। আগে এসব সেবার জন্য দেশের টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা টোলিযোগাযোগ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিঙ্গাপুর, হংকসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করতো। আর এখন এসব সেবা নিশ্চিত করবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু১।

You Might Also Like