অন্ধকার বাক্সে দুই বছর

টানা দুটি বছর তাকে কাটাতে হয়েছে ১০ বর্গফুটের কাঠের একটি বাক্সের ভেতরে। সঙ্গী বলতে কিছু ঘাস আর একটি প্লাস্টিকের বোতল। মানুষের এলাকায় বাস করেও তাকে বন্দী হয়ে থাকতে হয়েছে অন্ধকারে। শেষ পর্যন্ত কোটাপ নামে এক ওরাংওটাংকে ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের পশ্চিম কালিমান্তানের রাবাক গ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক পশু সুরক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করেছে।

রাবাক গ্রামের বাসিন্দা বাকোর কাছে বন্দী ছিল কোটাপ। বাকো দাবি করেছেন, দুই বছর আগে কেটাপাং গ্রামের কয়েকজন লোক তাকে ওরাংওটাংটি দিয়েছিল। সে ওরাওটাংটিকে বাসা নিয়ে আসে এবং দেখভাল শুরু করে। পরবর্তীতে দেখা গেল, ওরাংওটাংটি প্রতিবেশীদের যন্ত্রণা দেওয়া শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে কাটোপকে একটি কাঠের বাক্সে বন্দী করে রাখে।

বাকো জানান, মানুষ যা খায় সেগুলোই তিনি কাটোপকে খাওয়ার জন্য দিতেন। কাটোপের কাছে সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য হচ্ছে রান্না ছাড়া সিদ্ধ নুডুলস।
এর আগে পশু অধিকার রক্ষা কর্মীরা বাকোর কাছে যেয়ে কাটোপকে মুক্তির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে বাকো রাজী হয়নি। পরবর্তীতে বোর্নিওতে ওরাংওটাং লুপ্তপ্রায় এবং কাটোপের ভালর জন্যই তাকে ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন জানালে বাকো রাজী হন।

দুই বছর কাঠের বাক্সে থাকার কারণে কাটোপের ভেতরে ভয় ও আতঙ্ক বাসা বেধেছিল। তাকে যেই বাক্সটিতে রাখা হয়েছিল, সেটি খুলে দেওয়ার পর আতঙ্কে পিছিয়ে গিয়েছিল সে। পরে অবশ্য তাকে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পশু সুরক্ষার প্রধান নির্বাহী অ্যালান নাইট বলেছেন, চার বছর বয়সেও তার মায়ের সঙ্গে থাকা উচিৎ। মায়ের কাছ থেকে তার গাছ বেয়ে ওঠা, বনে যাতায়াত, বাসা তৈরি, কোন খাদ্য খাবে বা কোনটি খাবে না তা শেখা প্রয়োজন।

You Might Also Like