অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের মেয়েরা অসাধারণ খেলেছে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বব্যাপী পরিচিত খেলাধুলার পাশাপাশি দেশীয় খেলাধুলাকে রক্ষারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ (রবিবার) দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশীয় খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, এগুলো ধরে রাখার জন্যও ‌ব্যবস্থা করা উচিত। আজকের বাচ্চারা ডাঙগুলি খেলা চেনে না। কিন্তু এ ধরণের খেলাগুলো তাদের চেনানোর ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, বিশ্ব ক্রিকেটের সবাই এখন টাইগারদের হিসেব করে চলে। এক সময় আমাদের ক্রিকেটারদের নিয়ে সমালোচনা করা হত। বলা হত, আমি নাকি ক্রিকেট খেলা দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে লবিং করে টেস্ট স্ট্যাটাস এনে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের ছেলেরা নিজ যোগ্যতাতেই টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল। তারা এখন অনেক ভাল করছে।

তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে বিশ্ব মানের খেলোয়াড়। এদের মধ্যে তরুণ খেলোয়াড় মুস্তাফিজও আছে। সে কাটার মাস্টার হিসেবে বিশ্বের সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে।

ফুটবল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের মেয়েরা অসাধারণ খেলেছে। অথচ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা যখন প্রমীলা ফুটবল চালু করেছিলাম তখন অনেক বাধা এসেছে। কিন্তু এখন আর কোন বাধা নেই। আমাদের মেয়েরা বেশ ভাল করছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলেন, ‘মেয়েরা ১০ গোল দেয়, ছেলেরা ৫ গোল খেয়ে আসে।’ কিন্তু তারপরই পুরুষ ফুটবলারদের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে আমি বলছি না তারা পারবে না। তারাও এক সময় পারবে।

প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, বিকেএসপিকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছি আমরা। বিকেএসপি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে ছিল। আমরা তা ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছি। সেই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপি’র শাখা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি।

খেলার মাঠ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ যেন হয় তার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমানে রাজশাহীতে এ ব্যবস্থা নেই। কারণ সেখানে আন্তর্জাতিক মানের কোনো হোটেল নেই। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি বিভাগ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মাঠের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম ও উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম করে দেব আমরা। যেন বাচ্চারা খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোট ৩২ জনকে এ পুরস্কার দেয়া হয় ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামালকে ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে রোববার শেখ কামালের পদকটি নেন তার বন্ধু বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও ঢাকা ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহেদ রেজা।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে ১৯৭৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার চালু করা হয়। ১৯ জন ক্রিকেটারসহ মোট ১৮৮ জন এ পর্যন্ত এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

You Might Also Like