অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা : বাধা, উত্তরণ

ইকতেদার আহমেদ

তথ্য সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তথ্যের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তা জনমানুষের কাছে প্রকাশই হলো সাংবাদিকতা। সাংবাদিকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে সমাজের যা কিছু ভালো তাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, অসঙ্গতি, অব্যবস্থাপনা, দুর্বলতা, শোষণ, নিপীড়িন, বঞ্চনা, অনৈতিক ও নীতিজ্ঞানবহির্ভূত কার্যকলাপের চিত্র জনমানুষের সামনে প্রস্ফুটিত হয়। একজন সাংবাদিকের জন্য সৎ, নীতিবান, নৈতিকতাসম্পন্ন ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি মেধাবী, সাহসী, বুদ্ধিদীপ্ত হওয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া একজন সাংবাদিককে অধ্যবসায়ী, যোগাযোগ রক্ষায় প্রত্যয়ী এবং স্বীয় বিবেক ও সমাজের কাছে দায়বদ্ধ হতে হয়।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অপরাপর কিছু গণ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি হলেও প্রয়োজনীয় পড়ালেখা করে সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করেছেন এ ধরনের ব্যক্তির সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয়। সম্ভাবনাময় ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে অধুনা সাংবাদিকতা উঁচুমানের পেশা হলেও আমাদের দেশের বেশির ভাগ সাংবাদিক রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত। প্রয়োজনীয় অধ্যয়ন-পরবর্তী সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করলে অথবা প্রবেশ পরবর্তী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য করে তুললে এ পেশায় সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল অবস্থানে আসীন হওয়া সম্ভব।

বিশ্বের প্রতিটি দেশের আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সমাজের তিনটি স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমানে গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম জনমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলনে কতটুকু সফল তা মূলত নির্ভর করে গণমাধ্যমকে সচল রাখার প্রয়োজনে নিয়োজিত সংবাদকর্মীদের সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর। অতীতে আমাদের দেশের গণমাধ্যমের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদনার কাজ সাংবাদিকেরাই সম্পন্ন করতেন। বিগত তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদনা এ তিনটি কাজে দুঃখজনকভাবে পেশাজীবী সাংবাদিকদের পরিবর্তে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মালিকদের আগমন ঘটেছে। এতে করে সাংবাদিকতা পেশায় সততা ও বস্তুনিষ্ঠতায় মলিনতা বাহ্যিকরূপে দৃশ্যমান।

গণমাধ্যমে সাংবাদিকেরা তাদের মুক্ত চিন্তার বহিঃপ্রকাশে যেন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন সেটিকে লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে দেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে। এ বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়ছে- আইনের মাধ্যমে আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো।

সাধারণ সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে তার অনুসন্ধিৎসু মন থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতাকে অবদমিত করে সত্য উদঘাটনে সর্বাত্মক শ্রম দিয়ে সফলতার অনন্য নজির স্থাপন করেন। পৃথিবীর যেসব দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ ও বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জনকল্যাণে সুনিশ্চিত সেসব দেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পরিসর সীমিত হলেও এ পথে অগ্রসর হতে বাধা নেই। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে যত বিপত্তি দেখা দেয় দুর্বল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, যেখানে জনপ্রতিনিধি ও জনসেবকদের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বরাবরই প্রশ্নের মুখোমুখি। এসব দেশে জনপ্রতিনিধি ও জনসেবকেরা শক্তিমানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকদের আইনি জটিলতায় বিজড়িত করে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেন।

একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিককে ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এমন অনেক অনুসন্ধিৎসু সংবাদ রয়েছে যেগুলোর অনুসন্ধানে একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকের কঠোর পরিশ্রম ও সাহসী ভূমিকায় দৃঢ়তার সাথে অগ্রসর হতে হয়। একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিককে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে উদ্যমে ভাটা পড়ার কোনো অবকাশ নেই। অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকদের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু যারা এ পথে পা বাড়ান তাদের এ ঝুঁকির বিষয় মাথায় নিয়েই অবিচলভাবে এগিয়ে যেতে হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তথ্য সংগ্রহে কায়েমি স্বার্থবাদী মহল সব সময় বড় বাধা হিসেবে দেখা দেয়। আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদী মহলের চরদের বাধায় পড়ে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়াসহ শারীরিকভাবে নিপীড়িত ও নিগৃহীত হয়েছেন এমন ঘটনা বিরল নয়। শত প্রতিকূলতার পরও যেসব অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক তাদের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞানে সত্যের অনুসন্ধানে অমানুষিক চাপ সহ্য করে লক্ষ্যে পৌঁছে জনমানুষের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকতা পেশার উৎকর্ষে নিজেকে বিলীন করে দিতে সদা উদ্যত তারা সত্যিই চিরঞ্জীব।

একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিককে প্রতিবেদন প্রস্তুতের ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। একজন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকের প্রতিবেদন শুধু বস্তুনিষ্ঠ হলেই চলে না, এর সাথে এটিকে হতে হয় পাঠকের জন্য সুপাঠ্য ও সহজবোধ্য। তার উপস্থাপনায় শব্দ, বাচনভঙ্গি ও ভাষার মাধুর্য শ্রোতাদের আকৃষ্ট এবং হৃদয় স্পর্শ করতে পারলে অনুসন্ধিৎসু প্রতিবেদনটি সার্থক মর্মে বিবেচিত হয়।

বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নেভানোর সময় চতুর্দিকে জড়ো হওয়া উৎসুক জনতার একটি বড় অংশ যখন সেলফি তোলায় ব্যস্ত, তখন দেখা গেল বনানীর কড়াইল বস্তিতে বসবাসরত দশ বছর বয়সের নাঈম নামক একটি বালক ফায়ার ব্রিগেডের পানির পাইপের পলিথিন মোড়ানো অংশের উপর বসে পাইপের ফুটো দিয়ে পানি যেন বের হতে না পারে তা রোধের চেষ্টায় ব্যস্ত। বালকটি ফায়ার ব্রিগেডের পলিথিন মোড়ানো পানির পাইপের অংশের ওপর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে পাইপের ফুটো দিয়ে পানি বের হওয়া রোধ সম্ভব হয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বালকটির এ মহৎ মানবিক কাজের ছবি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে বালকটিকে নিয়ে অনেকের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম বালকটির সাক্ষাৎকার গ্রহণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমের বদৌলতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার ও সংবাদ পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জনৈক বাংলাদেশী বালকটিকে নগদ পাঁচ হাজার ডলার দেন ও তার লেখাপড়ার খরচ বহনের দায়িত্ব নেয়ার বিষয় বালকটি ও তার অভিভাবকের সাথে সরাসরি কথা বলে জানিয়ে দেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীর সাথে কথা বলার সময় বালকটি বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হওয়ার আশা ব্যক্ত করে। বালকটির পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা জানতে পারেন, তার বাবা-মা এর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে ডাব বিক্রি করে জীবনধারণ করেন। অপর দিকে তার মা মেসে রান্না করে সংসারের ব্যয় মেটান। বালকটি প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে লেখাপড়া করলেও অভাব অনটনের কারণে স্কুলে যাতায়াত নিয়মিত নয়।

শাহরিয়ার নাজিম জয় নামক জনৈক টিভি অভিনেতা ও উপস্থাপক শিশু নাঈমের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করেন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী থেকে পাওয়া পাঁচ হাজার ডলার দিয়ে সে কী করবে। এর উত্তরে বালকটি বলে- পুরো পাঁচ হাজার ডলার এতিমখানায় দিয়ে দেবে। কেন সে এতিমখানায় দিয়ে দেবে পুনঃপ্রশ্ন করলে বালকটি জানায়, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে দেয়ায় সে এতিমদের টাকা দিতে চায়। বালকটি অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা। তার বাবা-মা উভয়ই অসচ্ছল এবং দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জড়িত। এমন বালকের এত বড় প্রাপ্তির পুরো টাকা এতিমদের দান করবে এটি অনেকের কাছে অস্বাভাবিক বিবেচিত ঠেকে। ইত্যবসরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তার দান করা পাঁচ হাজার ডলার বালকটি এতিমখানায় দিয়ে দেবে- এ কথাটি জানার পর সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি বালকটিকে এ ডলার হস্তান্তর না করে নিজে সরাসরি কোনো এতিমখানায় দিয়ে দেবেন। বালকটি ও তার অভাবী বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর সিদ্ধান্ত জানার পর তাদের ভবিষ্যতের সুখের আশায় মরীচিকা দেখা দেয় এবং তারা দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে হতাশায় নিমগ্ন হয়ে পড়েন। একটি অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের বালকের কাছে এত বড় প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া অনেকটা মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ঠেকে। কিভাবে প্রবাসী থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়া যায় এ চিন্তায় সে যখন নিমগ্ন, তখন আমিরুল মোমেনীন মানিক নামক জনৈক অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসে বালকটি প্রবাসীর দেয়া চার লাখ টাকার সমপরিমাণ পাঁচ হাজার ডলার যে এতিমখানায় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সেটি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তাকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক বালকটির অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়ে তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে তাকে যে রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল এটি জনমানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর কাছে আবেদন জানান, তিনি যেন তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বালকটিকে তার প্রতিশ্রুত পাঁচ হাজার ডলার দেয়াসহ তার লেখাপড়ার খরচ বহন করে তার আশা পূর্ণ হওয়ার ব্যবস্থা করেন। অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ইউটিউবের মাধ্যমে ভাইরাল হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীসহ অনেকেই প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হন। এরপর দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বালকটিকে পাঁচ হাজার ডলার দেয়াসহ তার লেখাপড়ার খরচ বহনের সিদ্ধান্তটি পুনঃনিশ্চিত করেন।

সম্প্রতি অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকের টেলিভিশনে প্রকাশিত দু’টি পৃথক প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশবাসী স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন দু’টি বিভাগের দু’জন নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করে। এরা উভয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তার পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। নিম্নপর্যায়ের দু’জন কর্মকর্তার এ হেন ব্যাপক দুর্নীতি থেকে ধারণা পাওয়া যায় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে দুর্নীতির মাত্রা ভয়াবহভাবে কত সর্বগ্রাসী।

দু’জন অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক যেভাবে স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের দু’জন কর্মকর্তার দুর্নীতির চিত্র দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করলেন, এভাবে সরকারের অপরাপর মন্ত্রণালয় ও বিভাগে যে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে তার খণ্ডচিত্রও যদি অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকেরা জনসম্মুখে তুলে ধরার প্রয়াস নেন তাতে দেশ, জাতি ও জনগণ উপকৃত হবে এবং সরকারের সম্পদের অপব্যবহার রোধ হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কারণে লোপাট হয়। আর সে কারণে উন্নয়নের নামে যা কিছু হয় তা টেকসই হয় না। এতে করে উন্নয়ন-পরবর্তী দেখা যায় রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। সরকারের বিভিন্ন বিভাগসহ দেশের সর্বত্র যে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের একটি করে দুর্নীতির চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশের প্রয়াস নেন তা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অপরাপর দুর্নীতিগ্রস্তদের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক

E-mail: [email protected]

You Might Also Like