হোম » অনবদ্য ব্যাটিং আর অগ্নিঝরা বোলিং; ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান

অনবদ্য ব্যাটিং আর অগ্নিঝরা বোলিং; ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান

ঢাকা অফিস- Sunday, June 18th, 2017

ওপেনার ফখর জামানের অনবদ্য ব্যাটিং আর পেসার মোহাম্মাদ আমিরের অগ্নিঝরা বোলিং দিয়ে ইতিহাস গড়েছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডে ওভালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দল তৈরি করেছে এ ইতিহাস। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে এত বড় ব্যবধানে কেউ জিততে পারে নি!

ম্যাচের আগে লন্ডন থেকে সাক্ষাৎকারে পাক দলের বোলিং কোচ আজহার মেহমুদ বলেছিলেন, তারা ভারতের বিরুদ্ধে জিতে ইতিহাসটা পাল্টে দিতে চান। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের খরায় ভুগছিল পাক ক্রিকেট দল। এছাড়া, বিশ্বকাপের কোনো আসরে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয় নেই। আজহার মেহমুদের কথা সত্যি হয়েছে, তবে আজকের ম্যাচে তারা এভাবে ফিরে আসবেন আর এমন ইতিহাস তৈরি করবেন কে জানতেন!

আসলে দিনটাই যেন পাকিস্তানের ছিল। পাক অধিনায়ক টসে হেরেছেন কিন্তু ওই পর্যন্তই। পরের ঘটনা সব যেন তার পক্ষে। তরুণ ফখর জামানের সঙ্গে ছন্দময় ব্যাট করেছেন অভিজ্ঞ আজহার আলী। শুরুর দিকে জামান নো বলে প্রাণ পেয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে উইকেটের চারপাশে ব্যাট চালিয়েছেন। গড়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি; শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ১১৪ রান করে আউট হন এ আসরেই ডেব্যু হওয়া ফখর জামান। তার সঙ্গী আজহার আলী করেছেন ৫৯ রান। পরের দিকে আসা বাবর আজম ৪৬ ও মোহাম্মদ হাফিজ ৩৭ বলে ৫৭ রান তুলে পাক ইনিংসকে মোটাতাজা করেছেন। শেষ পর্যন্ত পাক দলের ফিগার দাঁড়ায় চার উইকেটে ৩৩৮ রান।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ২৬৪ রানের বেশি তাড়া করার রেকর্ডই ছিল না। ভারতের যে ব্যাটিং লাইনআপ তাতে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে এমন আশায় বুক বেধেছিলেন ভারতভক্তরা। কিন্তু সে কীর্তি গড়ার ধারেকাছেও যায় নি বিরাট কোহলির ভারত। বরং মাত্র ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয়ে ভক্ত-সমর্থককদের লজ্জায় ডুবিয়েছেন তারা; বরণ করে নিয়েছেন লজ্জার এক রেকর্ড!

পাক দলের প্রথম ওভারেই মোহাম্মাদ আমিরের তৃতীয় বলে এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে পড়ে আউট হয়ে যান রোহিত শর্মা। তখন ভারতের রান শূণ্য। পরের ওভারেই ক্যাচে দিয়ে সাঁজঘরে ফেরেন ভারত অধিনায়ক কোহলি। তখন ভারতের খাতায় মাত্র ছয় রান। দলীয় স্কোর যখন ৩৩ তখন শিখর ধাওয়ানকে আউট করে মোহাম্মাদ আমির ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের কোমর ভেঙে দেন। পরের সময়টুকুতে হাসান আলী, জুনায়েদ আর শাদাব ভুগিয়েছেন বারতীয় ব্যাটসম্যানদের। শেষ দিকে হারদিক পান্ডে কিছু চার ছয় মেরে গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন বটে কিন্তু তিনি দলের যে অবস্থায় এক কাজে মত্ত হয়েছিলেন তখন কারো জন্য ভারতের জয়ের পক্ষে বাজি ধরা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে পাকিস্তানের কাছে হার মেনে নিতে হয়েছে। ধুকতে ধুকতে ফাইনালে ওঠা পাকিস্তান বিজয়ের দারুন সুবাস নিয়েছে। মোহাম্মাদ আমির এবং হাসান আলী নিয়েছেন তিনটি করেন উইকেট। শাদাব নেন দু্ই উইকেট আর জুনাইদ নিয়েছেন একটি। দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জন্য ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন ওপেনার ফখর জামান আর ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছেন পাক দলের হাসান আলী।

ক্রিকেটের এমন আসরে এই ইতিহাস গড়া হয়ত ওদের পক্ষেই সম্ভব; ওরা যে আনপ্রেডিক্টেবল দল। সম্ভবত ইমরান খানের বকুনিও কাজে এসেছে।

সর্বশেষ সংবাদ