অদেখা সুচিত্রার দেখা মিলল!

বাংলা সিনেমার মহা নায়িকা হিসেবে খ্যাত সুচিত্রা সেন। ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় এই নায়িকা ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সাড়ে চুয়াত্তর, শাপমোচন, সবার উপরে, সাগরিকা,পথে হল দেরি, হারানো সুর, দীপ জ্বেলে যাই, চাওয়া-পাওয়া, গৃহদাহ সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে সকলের হৃদয়ে ঠাঁই নেন।
সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর ১৯৭৮ সালে তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই মহা নায়িকা পুরোপুরি অন্তরীন জীবনযাপন করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাছের মানুষরা ছাড়া আর কেউই সুচিত্রা সেনকে স্বশরীরে দেখা তো পরের কথা, সেসময়ের তার কোনো ফটোগ্রাফও দেখতে পায়নি।
তবে অন্তরালের যাওয়ার পর সুচিত্রা সেন কেমন ছিলেন, সেটা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার আনন্দপ্লাস। পত্রিকাটি সম্প্রতি সুচিত্রা সেনের সে সময়ের দুইটি ছবি প্রকাশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে সুচিত্রার নাতনী রাইমা সেন বলেছেন, আনন্দপ্লাস এ দুটি ছবি কোথা থেকে পেলো, অবাক হয়ে যাচ্ছি! কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখেছিলাম, মহারানী গায়ত্রী দেবীকে আমার দিম্মার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। আর সেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে বোকার মতো গায়ত্রী দেবীকে সুচিত্রা সেন ভেবেছিলেন। এ কারণে প্রথমে মনে হয়েছিল এ দুটি ছবিও বোধহয় সেরকম! কিন্তু আমার হোয়াটসঅ্যাপ আনন্দপ্লাসের পাঠানো এই দুটি ছবি ভালো করে দেখতেই বুঝলাম এটা আমার দিম্মাই। আপনাদের সুচিত্রা সেন।’
তিনি আরো বলেন, ছোটবেলায় সুচিত্রাকে এমনই দেখেছেন তিনি। এ ছবিটি সেই সময়কার, যখন তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই সুচিত্রাকে এতদিন খুব কম মানুষই দেখেছেন।
রাইমা বলেন, সেই সময় আমরা হ্যারিংটন ম্যানসন্সে থাকতাম। আর দিম্মা থাকত বালিগঞ্জে। শুক্রবার বিকেলে স্কুলের ছুটি হলেই আমরা গাড়ি করে সোজা দিম্মার বাড়ি। ছবিতে যে চেয়ারটা দেখছেন, এই চেয়ারটা ছিল দিম্মার সবচেয়ে প্রিয়। এই চেয়ারের মাথার পিছনেও উঠতাম আমরা। আর দিম্মা আমাদের সাবধানে নামিয়ে দিত। আজ এত বছর পর এই ছবিটা দেখে তাই বুকের ভিতরটা হুহু করছে।

You Might Also Like