অতিরিক্ত আইজিপির পিএর বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ

পুলিশ সদর দফতরের স্টাফ অফিসার ও অতিরিক্ত আইজির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মো. আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নথি তলব করার এক মাস পরও কোনো ধরনের কাগজপত্র সরবরাহ করেননি তিনি। দুদকের একটি সূত্র বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশে যোগদান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীতে ‘এনজিও-ব্যবসা’ পরিচালনা করা, হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, নিজ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও পুলিশের গোপন তথ্য বিরোধী পক্ষকে পাচারসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বরাবর তার ব্যক্তিগত নথিসহ অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চেয়ে চিঠি পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন।

চিঠিতে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথিপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার নথি দ্রুত সরবরাহ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত পুলিশ সদর দফতর থেকে কোনো ধরনের নথি সরবরাহ করা হয়নি।

এর আগে এই ঘটনায় ১৮ ফেব্রুয়ারি মো. আইয়ুব আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দফতরের স্টাফ অফিসার মো. আইয়ুব আলী অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়ন তার স্থায়ী ঠিকানা। অথচ পুলিশে নিয়োগের সময় পটুয়াখালী জেলায় কোনো কোটা না থাকায় তিনি ঢাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নিয়োগ নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, মো. আইয়ুব আলী পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (প্রশাসন) সঙ্গে থাকার সুবাদে সরকারবিরোধী পক্ষকে বিভিন্ন লোকদের অনেক গোপন তথ্য পাচার করে দিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলতে সহযোগিতা করে আসছেন, যার অনেক প্রমাণ পুলিশ দফতরে রয়েছে।

‘এনজিও-ব্যবসার’ বিষয়ে জানা যায়, রাজধানীর বাড্ডায় ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট নামের একটি এনজিও খুলে তা তার স্ত্রী ও অন্যদের দিয়ে পরিচালনা করে আসছেন। এনজিওতে বিনিয়োগকৃত নিজের টাকা বিদেশে তার আত্মীয়দের মাধ্যমে অনুদান দেখিয়ে তা বৈধ করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

সূত্র আরো জানায়, মো. আইয়ুব আলী পুলিশ সদর দফতরের আইজি ও অতিরিক্ত আইজির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ অাদায় করে চলছেন। রয়েছে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, নিজ এলাকায় বিভিন্ন লোকজন দিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক ব্যবসায় পরিচালনা করার অভিযোগও।

এসব নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ঢাকায় জমি, ফ্ল্যাট, একাধিক গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। পুলিশ সদর দফতরের আইজি ও অতিরিক্ত আইজির স্টাফ অফিসার হিসেবে কাজ করার কল্যাণে তিনি অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন।

২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই স্টাফ অফিসারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।