অজ্ঞানপার্টির খপ্পড়ে সিটি হাটের ২৫ গরু ব্যবসায়ী, আটক ৪

রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুর হাট রাজশাহী সিটি হাটে হানা দিয়েছে অজ্ঞান পার্টি। আর ওই অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়েছেন ২৫ গরু ব্যবসায়ি।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি হাটের একটি হোটেলের টিস্যুতে মুখ মুছে একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তারা।

এদের মধ্যে গুরুতর ছয় জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এরা হলেন, বেলাল উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, খায়রুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, কালু মিয়া ও জজমিয়া। তারা বর্তমানে হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

এছাড়া কামরুজ্জামান, সেলিম, ছিদ্দিক, আমজাদ হোসেন, হালিম, দেলোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান, জুয়েল, হারুন, বেল্লাল উদ্দিন, ইকবাল ও জাকারিয়াসহ বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

গরু ব্যবসায়িদের প্রায় সবারই বাড়ি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার সাসপুর গ্রামে।

এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে ওই হোটেলের মালিক জাফর পালিয়ে গেছেন। তবে তার ছেলে ফয়সাল, কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন, সোহরাব ও আব্দুল হালিমকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হোটেলটি।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃতদের ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে অন্যকোন চক্র জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সিটি হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদ বাজার ঘীরে সিটি হাটের নিরাপত্তা এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে ব্যবসায়িদের আতঙ্কিত না হবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে রেহাই পাওয়ায় গরু ব্যবসায়ী লিটন আলী জানান, সকাল ১০ টার পর থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী, ট্রাক চালক ও সহকারী মিলে অন্তত ৪০ জন হাটের ভেতরের জাফরের হোটেলে গরুর গোস্ত দিয়ে ভাত খান।

বেরিয়ে যাবার সময় তারা প্রত্যেককেই হোটেল থেকে টিস্যু নিয়ে হাত ও মুখ মুছেন। এরপর থেকে একে একে অজ্ঞান হতে শুরু করেন তারা। দিনে দুপুরে এমন কা-ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়িরা। তবে এ ঘটনায় তাদের কোন টাকা-পয়সা খোয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ি।

সিটি হাটের গরু ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, অতীতে কখনো এভাবে গণহারে ব্যবসায়ীরা সিটি হাটে অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়েননি। হাটের ভেতরের হোটেলে খাবার খেয়ে এমন ঘটনায় হাটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এর সঙ্গে হাটপরিচালনা কমিটির যোগসাজসও খুঁজছেন কেউ কেউ।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু। তিনি দাবি করেন, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে হাট পরিচালনা করে আসছেন। তবে হঠাৎ এমন ঘটনায় তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তবে ঘটনার পরপরই তারা বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশই আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

You Might Also Like