অজানা কিছু কথা

১৯৪১ সালে গ্রীষ্মের ছুটিতে ছোট মামা আর চাচাতো ভাইদের সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিলেন তিনি। ফিরোজা বেগমের বয়স তখন ৯ বছর। তবে নিয়মিত গানবাজনা করতেন। একদিন এক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের গানের আসরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গান করতে। সেখানে অনেকেই ছিলেন। উপস্থিত সবার সামনে ‘যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা’ গানটি গেয়েছিলেন ফিরোজা। সেই আসরে ছিলেন কাজী নজরুল। ওটাই ছিল কবির সঙ্গে আমার ফিরোজার প্রথম সাক্ষাৎ।

১৯৪২ সালে সেই সময়ের বিখ্যাত গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে ফিরোজা বেগমের প্রথম রেকর্ড বের হয়েছিল। ওটা ছিল ইসলামী গানের রেকর্ড। চিত্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে তখন তিনি গেয়েছিলেন ‘মরুর বুকে জীবনধারা কে বহাল’ গানটি। কিছুদিন পর কমল দাশগুপ্তের তত্ত্বাবধানে উর্দু গানের রেকর্ড বের হলো। এগুলো হলো- ‘ম্যায় প্রেম ভরে, প্রীত ভরে শুনাউ’ এবং ‘প্রীত শিখানে আয়া’ গান দুটি। কিছুদিনের মধ্যেই পর-পর চারটি রেকর্ড বের হলো তার। বরাবরই কঠিন সুর শেখার প্রতি তার বেশি ঝোঁক ছিল।

১২ বছর বয়সে প্রথম রেকর্ড বেরোলেও তিনি মঞ্চে প্রথমবার গান করেন ১৯৭২ সালে। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর কলকাতায় ছিলেন ফিরোজা বেগম। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুরকার কমল দাশগুপ্তের। সেখান থেকেই পরিচয়, তারপর বিয়ের বন্ধনে জড়ান। তাদের এ বিয়ে প্রথমে মেনে নেয়নি পরিবার। তাদের তিন সন্তান তাহসিন আহমেদ, হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ কলকাতাতেই জন্মেছেন। সংসার সামলাতে গিয়ে প্রায় পাঁচ বছর গান থেকে দূরে ছিলেন ফিরোজা বেগম।

You Might Also Like