হোম » অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা দেবে জাতিসংঘ

admin- Friday, November 3rd, 2017

সিরাজুস সালেকিন : আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কারিগরি সহায়তা দেবে জাতিসংঘ। ইসি’র অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঁচটি বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। আগামী বছর থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকল্পভিত্তিক কাজ করবে জাতিসংঘ। সম্প্রতি চিঠির মাধ্যমে ইসিকে এ সহায়তা প্রদানের কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের সহায়তার বিষয়টি কমিশন সভায় আলোচনা হয়েছিল। বিষয়টি কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটি দেখভাল করে যেগুলো সুপারিশ দেবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হবে।

তবে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা চলছে, চলবে। এরপর কমিশন এটি চূড়ান্ত করবে। ইসি সূত্র জানায়, যে পাঁচটি খাতে জাতিসংঘ সহায়তা দিতে আগ্রহী সেগুলো হচ্ছে- ভোটার নিবন্ধন, পাবলিক আউটরিচ স্ট্র্যাটেজি, কনফ্লিক্ট মিটিগেশন স্ট্র্যাটেজি, ক্ষুদ্র জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ সবার অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণে ইসি’র সক্ষমতা বাড়ানো এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণে ইসি’র সক্ষমতা বাড়ানো। নির্বাচন কমিশন কয়েকটি ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা চেয়েছিল। গত ২০শে জুন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ডি ওয়ার্ট কিনসের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন প্রতিনিধি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে বেশকিছু দেশের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন। মানসম্মত এনআইডি, ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ ১০ ধরনের কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল ইসি’র পক্ষ থেকে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘকে চিঠি পাঠায় ইসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স (ডিপিএ)- এর ইলেক্ট্রোরাল অ্যাসিস্ট্যানস ডিভিশন (ইএডি)-এর একটি নিডস অ্যাসেসমেন্ট মিশন বাংলাদেশে এসেছিল। মিশন গত ২৪শে জুলাই থেকে ২রা আগস্ট বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন, কমিশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরবর্তীতে তারা একটি প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশ ইতিমধ্যে জাতিসংঘ অনুমোদন করেছে।

গত ১৯শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচনী সহায়তার ফোকাল পয়েন্ট জেফরি ফেল্টম্যান এক চিঠিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে সুপারিশ অনুমোদনের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত। পরবর্তী পদক্ষেপ বা যোগাযোগের বিষয়ে আবাসিক সমন্বয়ক আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সফটওয়্যার উন্নয়নে ইসিকে সহায়তা দিতে চায় জাতিসংঘ। বিশেষ করে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন যাতে গুণগত মানসম্পন্ন ও নির্ভুল করা যায়। এবং ক্রমান্বয়ে দাতা গোষ্ঠীর সহযোগিতা ছাড়া ইসি যাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাজটি করতে পারে। নির্বাচনী সংঘাত উপশমে কৌশল উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে সমর্থন রয়েছে জানিয়ে জাতিসংঘ বলেছে, জেলাগুলোয় নির্বাচনী সহিংসতার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠায় অবদান, সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, সহিংসপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধিতে ইসি’র সক্ষমতা বাড়ানোয় সহায়তা করবে। প্রতিবেদনে মিশন বলেছে, নির্বাচন পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের আছে। তারপরও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণসহ কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা করার জায়গা আছে। বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।

কমিশন সভায় জাতিসংঘের সহায়তার বিষয়ে ইসি উপ-সচিব মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচন (প্রযোজ্য হলে) এর প্রস্তুতি, নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচন পরবর্তী অর্জিত শিক্ষা এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা উন্নয়ন ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির প্রকল্পের মাধ্যমে জাতিসংঘ কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করতে আগ্রহী। ইউএন উইমেনসহ জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা ও তহবিল ইউএনডিপির প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করবে। ২০১৮ সালের শুরু থেকে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি অথবা শেষ অবধি উক্ত প্রকল্প পর্যায়ভিত্তিক কাজ করবে। প্রথম পর্যায়ে জাতীয় নির্বাচন ও অর্জিত শিক্ষা নিয়ে উক্ত প্রকল্প কাজ করবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে ইউএনডিপির প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে। প্রকল্প তৈরির জন্য জাতিসংঘের একটি প্রজেক্ট ফরমুলেশন টিম বাংলাদেশে নিয়োগ করা হবে। উক্ত টিম বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, দাতা সংস্থা ও ইউএন ইলেক্ট্রোরাল অ্যাসিস্ট্যানস ডিভিশন (ইএডি)-এর পরামর্শ অনুসারে প্রকল্পের কার্যপরিধি নির্ধারণ ও বাজেট নিরূপণ করবে। একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন যেসব সহায়তা চেয়েছিল তার মধ্যে আছে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইসির সক্ষমতা বাড়ানো, ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানো, অটো মার্কিং সিল, ব্যালট পেপার মার্কিং কলম, ব্যালট বক্স লক, অটো অফিসিয়াল সিল, ভোটিং স্ক্রিন, ল্যাপটপসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনা, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ব্যবহারসহ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এবং ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা।